সাধারণ সম্পাদক রিপন হোসেন ফাহিমসহ ছাত্রলীগের ৬ নেতাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। অপর গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ৫৯নং ওয়ার্ড শ্রমিক লীগের সহসভাপতি শেখ মো. সোহেল, বাড্ডা থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের ত্রাণ ও দুর্যোগবিষয়ক সম্পাদক মো. সোহেল রানা, বাড্ডা থানার ৩৭নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ইয়ামিন, ১২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবুল বাশার খান ও পল্লবী থানা ছাত্রলীগের ৫নং ওয়ার্ডের জ্যেষ্ঠ সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম নাইম। এর পাশাপাশি ঢাকার বাইরে সারা দেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের অর্ধশত নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত এক সপ্তাহে রাজধানীর বাড্ডা, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, উত্তরা, ডেমরা, পল্লবী, যাত্রাবাড়ী, মহাখালী, লালবাগসহ অর্ধশত জায়গায় মিছিল করে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ছাত্রলীগসহ সমমনা সংগঠনের মিছিল ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মিছিলের সময় তাৎক্ষণিকভাবে সবাইকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব না হলেও পরবর্তীতে ছবি ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অনেককে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, জনবিচ্ছিন্ন ও বেআইনি সংগঠনের অপতৎপরতা দমনে তারা তৎপর রয়েছে।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপকমিশনার মো. তালেবুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, ছাত্রলীগ মিছিল করলেই গ্রেপ্তার করা হবে। তিনি বলেন, “ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অ্যাক্ট অনুযায়ী কেউ মিছিল বা সমাবেশ করতে চাইলে পূর্বানুমতি নিতে হবে। অনুমতি ছাড়া সড়কে মিছিল করলে এবং জনদুর্ভোগ বা যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে রাজধানী ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলায় দলীয় কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সম্প্রতি চট্টগ্রামে ১৮ দিনে গ্রেপ্তার হয়েছেন আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগসহ অঙ্গ-সংগঠনের ৩ শতাধিক নেতাকর্মী। এর মধ্যে গত ১৩ই এপ্রিল ৩১ জন, ১২ই এপ্রিল ৪৫ জন, ১১ই এপ্রিল ২৮ জন, ৮ই এপ্রিল ২৯ জন, ৭ই এপ্রিল ৩৯ জন, ৬ই এপ্রিল ৪৪ জন, ৩রা এপ্রিল ৩৯ জন, ২রা এপ্রিল ২৯ জন ও ১লা এপ্রিল ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় আওয়ামী লীগ নেতা রহিম উদ্দীন খান ও তার ছেলে রবিন খানকে বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রাজশাহীতে গ্রেপ্তার হয়েছেন ২৮নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সাহাবুল ইসলাম কমল এবং মহানগর তাঁতী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোকশেদউল আলম সুমন।
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মুকুল এবং নাভারণ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহজাহান আলীকে রোববার গ্রেপ্তার করা হয়। মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় যুবলীগ নেতা মাসুক মিয়াকে শনিবার ভোরে ভবানীগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঝিনাইদহ জেলায় গত ১৫ দিনে অন্তত ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি বরিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও খুলনায়ও আওয়ামী লীগের মিছিলে অংশগ্রহণের অভিযোগে শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
.jpg)
0 Comments