Header Ads Widget

#

২৬ লক্ষ ভারতীয়র মতোই বিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের গপ্পো আর তথ্যে তালগোল পাকালেন আসিফ নজরুল


 ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে কোটি কোটি ডলার চুরির ঘটনায় তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে মারাত্মক গাফিলতি করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন আইন উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। তিনি বর্তমানে এই বহুল আলোচিত রিজার্ভ চুরির ঘটনা পর্যালোচনার জন্য গঠিত কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

রোববার (১৩ এপ্রিল) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে একই দিনে বাংলাদেশ ব্যাংকে কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

রিজার্ভ চুরির ঘটনায় পর্যালোচনা কমিটি কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে জানিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, চুরির পরিকল্পনা ছিল প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের। শেষ পর্যন্ত চুরি হয় ৮ কোটি ৮৮ লাখ ডলার, যার মধ্যে এখনো উদ্ধার হয়নি প্রায় ৬৬ মিলিয়ন ডলার। তার ভাষায়, “এটি ছিল গোটা বাংলাদেশ লুটের একটি ভয়ংকর পরিকল্পনা। ২ বিলিয়ন ডলার চলে গেলে আমরা আজ দুর্ভিক্ষের মুখে পড়তাম।”

সংবাদ সন্মেলনে কথা বলতে গিয়ে মিলিয়ন আর বিলিয়ন ডলারে তালগোল পাকিয়ে ফেলেন আসিফ নজরুল। কখনো ২ বিলিয়ন কখনো ৮৮ বিলিয়ন বলে ফেলেন। জুলাই আন্দোলেনের পরে ক্ষমতা দখল করা আসিফ নজরুল সহ শ্বেতকমিটির রিপোর্টে বিভিন্ন সময়ে ২৬৮ বিলিয়ন, ১৭ লক্ষ কোটি টাকা পাচারের গল্প উঠে এলেও, গতকাল সংবাদ সন্মেলনে বাংলাদেশ গভর্নর ড আহসান এইচ মনসুর গত ১৫ বছরে ৫ লক্ষ কোটি টাকা পাচারের কথা বলেন। সঠিক তথ্য ও উপাত্তের অভাবে বিভিন্ন সংবাদ পত্র একেক রকম সংখ্যা বসিয়ে সংবাদ পরিবেশন করায় ইতিমধ্যে পুরো দুর্ণিতি আর টাকা পাচার নিয়ে জনগনের মনে ব্যাপক সন্দেহ দানা বেধে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে আসিফ নজরুলের একেকবার একেক সংখ্যা বলায় সেটা আরো পোক্ত হয়েছে।

এর আগেও আসিফ নজরুল ২৬ লক্ষ ভারতীয়ের বাংলাদশে চাকরী করা সংক্রান্ত তথ্য দিয়েছিলেন, যা দায়িত্ব গ্রহনের ৮ মাসেও প্রমাণ করতে পারেন নি তিনি।

তিনি আরও জানান, সিআইডিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম চার্জশিটে না দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, যা ছিল চরম অবহেলার উদাহরণ।

রিজার্ভ চুরির পর বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে যে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছিল, তার রিপোর্টকে ইতিবাচক আখ্যা দেন আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, সেই প্রতিবেদন তারা পর্যালোচনা করছেন এবং বর্তমান কমিটি নির্ধারিত তিন মাসের মধ্যে তাদের কাজ শেষ করতে পারবে বলে তিনি আশা করছেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি অজ্ঞাত হ্যাকাররা সুইফট পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করে নেয়। এর মধ্যে মাত্র ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার ফেরত আনতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। ৩৯ দিন পর এই ঘটনায় মতিঝিল থানায় মামলা করা হয় এবং তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-কে।

Post a Comment

0 Comments